নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদারীপুরে বিনামূল্যে সরকারের দেয়া টিফিনের খাবার খেয়ে ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) সকালে জেলা প্রশাসক মিজ মর্জিনা আক্তারের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুয়েল আহম্মেদকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
জানা যায়, বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে পাউরুটি ও ডিম বিতরণ করে সমতা ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। খাবার গ্রহণের কিছুক্ষণ পরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেট ব্যথা, বমি, ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
এ ঘটনায় পোকরারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আনিকা, জামিলা, রাহিমা, মীম ও চতুর্থ শ্রেণির রাবেয়া ও তাবাসসুমকে পেটে ব্যথায় গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা।
আক্রান্ত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে, পোকরারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাউজদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, করদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
মাদারীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফজলে এলাহী বলেন, বুধবার বিকেল পর্যন্ত আমরা ৫টি বিদ্যালয়ের তথ্য পেয়েছি। সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি ও ডিম খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে। একটি বিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষার্থী জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় খাবার সরবরাহকারী ডিলারদের সতর্ক করা হয়। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছ। তারা তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিবেন। পরে দোষীদের বিষয় ব্যাবস্থাগ্রহণ করা হবে।
তবে সমতা ট্রেডার্সের অপারেশন ম্যানেজার এএফএম আহাসানুল হাবিব বলেন, জেলার ৫টি উপজেলার ৭২৩টি বিদ্যালয়ের ৮৯ হাজার ১৫১ জন শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে ৫ দিন টিফিন দেয়া হয়। এতে কিছুটা সদস্যা হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে। তবে যারা অসুস্থ ছিলো তারা সুস্থ হয়েছে। আগামীতে সচেতন থাকা হবে।